সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে পটুয়াখালী জেলা থেকে আলোচনায় রয়েছেন লায়লা ইয়াসমিন, নাজমুন নাহার নাজু, সালমা আলম লিলি, ফেরদৌসী বেগম মিলি ও জেসমিন আক্তার। এরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে পটুয়াখালী থেকে সংসদ সদস্য হতে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে কথা হলে মনোনয়ন প্রত্যাশী লায়লা ইয়াসমিন বলেন, আমি ছাত্রদলের মাধ্যমে বিএনপিতে এসে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। আমাকে নমিনেশন দিলে এলাকার উন্নয়নের জন্য সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ এবং দুঃখী ও মজলুমদের জন্য কাজ করব।
তিনি আরো বলেন, ম্যাডামের বাড়ি ছাড়ার দিন আমি জাহাঙ্গীর গেটে লাঠির বাড়িতে আমার বাম হাত ভেঙে যায় এবং আমাকে যৌথভাবে এরেস্ট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও একাধিক মামলা-মোকদ্দমা ও হামলার শিকার হই। আমার বাড়ি কোপানো হয়, আমাকে রিক্সা থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়া হয়। আমার রাজনীতির জন্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হই। সরকারি চাকরি ছেড়ে বেসরকারি কলেজে চাকরি করি। নিজেদের মামলা-হামলা সহ অসংখ্য ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে ছিলাম। সর্বোপরি আমি দলের স্থানীয়সহ সকল পর্যায়ের নেতৃত্ববৃন্দের দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করছি।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশী নাজমুন নাহার নাজু বলেন, ৯০ দশক থেকেই আমি বিগত দিনগুলোতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেছি। সারাটি জীবন আমি এ দলের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনেক বাঁধা-বিপত্তি সত্বেও সাহস ও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে বাউফলে দু-দুটি উপজেলা নির্বাচন করেছি। বিএনপির জন্য একজন নিবেদিত কর্মী আমি নাজমুন নাহার নাজু কাজ করে যেতে চাই। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে পটুয়াখালী থেকে একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছি এবং বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
এদিকে সালমা আলম লিলি তালুকদার বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিকূল পরিবেশেও আমি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছি। দীর্ঘ স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছি। বাউফলে বিএনপিকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দল যদি আমাকে বড় পরিসরে কাজের সুযোগ দেয়, তাহলে আমি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
অন্যদিকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ফেরদৌসী বেগম মিলি বলেন, দলের জন্য জীবনের সেরা সময় রাজপথে কাটিয়েছি। নির্যাতন, কারাবরণ, বঞ্চনা—সবকিছু সহ্য করেছি কেবল দল ও আদর্শের জন্য। আজ যদি দল আমাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দেয়, তবে সেটি হবে ত্যাগের স্বীকৃতি। আমি পটুয়াখালীসহ দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদিত রাখতে চাই।
তিনি কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং জনগণের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী জেসমিন আক্তার বলেন, আমি দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয়ভাবে দলের জন্য অংশগ্রহন করেছি। তথা ১৯৯১ থেকে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে মহিলাদলের বিভিন্ন সভা সমাবেশে অংশগ্রহন করেছি। পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলকে শক্তিশালী করতে প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের চেষ্ঠা করেছি। নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের জেলা উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীদের নিয়ে ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করি এবং অধিকাংশ নারীদের ভোটের মাধ্যমেই ভোট প্রাপ্ত হয়ে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হয়।
এছাড়াও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং জুলাই আন্দোলনে দলীয় সকল কার্যক্রমে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেছি। আমার বিশ্বাস এসব বিষয় বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনীত করবেন।









