দশমিনা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ফুফু বাড়িতে বেড়াতে এসে তামান্না আক্তার (১৭) নামে এক তরূণীর বিষপানে মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর চরবোরহান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেপারী বাড়ির আলাউদ্দিন বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তামান্না আক্তার দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির আলী আকবর চৌকিদারের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তামান্না আক্তার দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপা উপজেলার চর মমতাজ ইউনিয়নের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। শুরুতে তামান্নার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নিলেও পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ঈদের পর সামাজিক নিয়ম মেনে শ্বশুরবাড়ি তুলে দেওয়ার কথা ও রয়েছে। প্রাথমিক বিয়ের সময় কোন মালামাল দেওয়ার কথা না থাকলেও পরে তামান্নার শ্বশুরবাড়ি থেকে মটরবাইক সহ নানান জিনিসের জন্য পরিবারের কাছে চাওয়া হয়। তামান্নার বাবা তাদের কথা রাকার জন্য কোরবানির ঈদ পর্যন্ত সময় নেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানা যায়, বিয়ের বিষয়ে আলোচনা চলাকালে ছেলের পক্ষ থেকে সোনার গহনা ও একটি মোটরসাইকেল দাবি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এ দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করেন তামান্নার বাবা। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তামান্নার ফুফু নাসিমা বেগম জানান, গলাচিপা উপজেলার চর মমতাজ ইউনিয়নের আকটি ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিলো তামান্নার। বিয়ের কথা চুড়ান্ত। আমি ওই ছেলের সাথে কথা বলি । ওই ছেলেকে বলি ওরাতো গরিব তোমাকে কিছু দিতে পারবেনা। কখোন ওই ছেলে বলে কিছু না দিলে হয়। তখোন মেয়ের ফুফুর কাছে এটা চেইন ও একছরা কানের জিনিস চায়। মেয়ের মা নেই বাবাব অন্যত্র বিবাহ করছে কেমনে দেবে তোমরা বুজো। আমি বিষয়টি তামান্নাকে বলি প্রেম করছো এখোন ছেলে এগুলো চায়। তোমাগো বিষয় তোমরা বুজ। সন্ধ্যার দিকে আমি পাশের বাড়ি যাই। এসে তামান্নাকে ডাকাডাকি করি কোন শব্দ না পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখি মেঝেতে অচেতন হয়ে পরে আছে। আমি ডাকচিৎকার করলে এলাকার লোক জন এসে বলে বিষপান করছে ও বেঁচে নেই । পরে তামান্নর বাবাকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হলে তামান্নার বাবা সহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ দশমিনায় নিয়ে আসে। কয়েকদিন পর বিয়ে কেন এমন কাজ করলো বুজতে পারছিনা।
নিহত তামান্নার বাবা আলী আকবর চৌকিদার জানান, ছেলে -মেয়ে দুজন একে অপরকে ভালোবাসত। ছেলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসার পর আমরা তাদের বিয়েতে রাজি হই। ঈদের দুই দিন পর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার কথাও ছিল। ছেলের পরিবার থেকে শুরুতে কোনো পাওনা চাওয়ার বিষয় ছিলোনা। তবে কয়েকদিন আগে ছেরের পরিবার থেকে সোনার গহনা, মটরবাইক সহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাবি করা হয়। আমি বলেছি, এখন আমার পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব নয়, কোরবানির ঈদ পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না। আজ শুনলাম আমার মেয়ে ফুফু বাড়িতে বিষ পান করে মারা গেছে।
তবে এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে উল্লেখ করে জানান, বিয়ে সংক্রান্ত দেনা,পাওনা নিয়ে যদি মোবাইল ফোনে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপ দিয়ে থাকে কেউ, তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাহাদাৎ মোঃ হাসনাইন পারভেজ জানান, বিয়ের মালামাল নিয়ে তাদের মাঝে কোন কিছু থাকতে পারে। মেয়ে নিজেই মৃত্যুও আগে লিখে রেখে গিয়াছে তার মৃত্যুও জন্য কেহ দায়ি নন। রহস্যজনক মৃত্যুর কোন বিষয় দেখছিনা। বিষ পানে মৃত্যু হয়েছে এটা নিশ্চিত। মেয়ের বাবার কোন অভিযোগ দেয়নি তাই মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, মেয়ে বিষপান করার আগে বলেছেন আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ি নন এবং মেয়ের ফুফু ও বাবা সহ স্থানীয় ইউপি সদস্য লিখিত দিয়েছেন ময়নাতদন্ত করার দরকার নেই, তাই আমরা জোরাজোরি করিনি।









