কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর প্রযুক্তি গ্রামে “আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি” শীর্ষক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশুরীবুনিয়া প্রযুক্তি গ্রামে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালী। এতে স্থানীয় প্রায় ৪০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ এখলাসুর রহমান। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পটুয়াখালী ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রোবায়েত নাজমুন ইভা।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ধান উৎপাদনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—উপযোগী ও উচ্চফলনশীল স্থানভিত্তিক ধানের জাত নির্বাচন, বীজ শোধন ও মানসম্মত বীজ ব্যবহার, স্বাস্থ্যকর চারা উৎপাদন কৌশল, সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে রোপণ, সুষম ও সময়োপযোগী সার প্রয়োগ, আগাছা ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই দমন (আইপিএম), সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্রের কার্যকর ব্যবহার। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল ধান চাষ প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রযুক্তিগ্রাম ভিত্তিক আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ধান চাষাবাদ কৃষি উন্নয়নের একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা একই প্ল্যাটফর্মে নতুন নতুন প্রযুক্তি সরাসরি দেখা, শেখা ও প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হচ্ছে। কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই চাষাবাদে অভ্যস্ত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।”
প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা তাদের মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সমাধান ও পরামর্শ গ্রহণ করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক ধান উৎপাদন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রধান অতিথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ প্রযুক্তি গ্রামের বিভিন্ন মাঠ কার্যক্রম- জাত/প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায়োগিক পরীক্ষণ এবং চলমান গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তারা চলমান ধানক্ষেতের অবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং কৃষকদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে কৃষকদের মাঝে আগাছা দমনে ব্যবহারের জন্য ব্রি উদ্ভাবিত রাইস উইডার বিতরণ করা হয়, যা কৃষকের শ্রম ও খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কার্যকর আগাছা ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।









