কুয়াকাটা প্রতিনিধি: ফাল্গুনের প্রথম দিন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ঘিরে প্রতিবছর যে পর্যটন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়, সে কুয়াকাটা-তেই এবার নেমে এসেছে নীরবতা। পর্যটকদের কোলাহলে মুখর থাকার কথা থাকলেও এ বছর ভালোবাসা দিবসে কুয়াকাটার দীর্ঘ প্রায় ২২ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী নিস্তব্ধতা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পর্যটন কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। নির্বাচন পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও ভ্রমণসংক্রান্ত নানা শঙ্কার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রত্যাশিত পর্যটকরা কুয়াকাটায় আসেননি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়।
পর্যটকের অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, ভাড়াভিত্তিক যানবাহন ও অন্যান্য সেবাখাতের উদ্যোক্তারা। অনেক হোটেলে কক্ষ খালি থাকায় আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ জানান, মৌসুমের অন্যতম ব্যস্ত সময়েও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
তবে পর্যটকের সংখ্যা কম হলেও যারা এসেছেন, তারা সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। কেউ খালি পায়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে বেড়াচ্ছেন, কেউবা সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন নিরিবিলি পরিবেশে। আবার অনেকে কুয়াকাটার আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন।
এদিকে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর থাকতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও পর্যটকের আগমনে প্রাণ ফিরে পাবে এই পর্যটন নগরী।









