মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি: পটুয়াখালী- মির্জাগঞ্জ-সুবিদখালী- বেতাগী সড়কের পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের গাবতলা খালের উপর ব্রীজের পাটাতন ভেঙ্গে মালবাহী একটি ট্রাক আটকে থাকায় এ সড়কে সকল যানবাহন চলাচল প্রায় ১৭ ঘন্টা বন্ধ থাকে।
বৃহস্পতিবার(৩০ জানুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে বেইলি ব্রীজের পশ্চমি পাড়ের পাটাতন ভেঙে ট্রাকের চাকা দেবে পড়ে। এরপর থেকেই যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দুপুর দুইটার পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনার পর থেকে পটুয়াখালী জেলা শহরের সাথে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে।
ট্রাকের চালক মনিরুল ইসলামের জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর বাউফল থেকে মাটির তৈরী পোড়া টালি নিয়ে চট্টগ্রামে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো- ট ২০-৯৭৩৬)। পটুয়াখালীর পায়রা সেতুতে ওয়েট স্কেলে অনুমোদিত ওজনের চেয়ে প্রায় ১ টন মাল বেশী হওয়ায় জরিমানা থেকে বাঁচতে পায়রাকুঞ্জ ফেরী পার হয়ে সুবিদখালী – বাকেরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাবতলা ব্রীজ অতিক্রমকালে ব্রীজের পাটাতন ভেঙ্গে পিছনের বামপাশের্বর চাকা দেবে গিয়ে আটকে যায়।
স্থানীয়রা জানান, গাবতলা ও থানা সংলগ্ন ব্রীজটি দীর্ঘদিন যাবত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা স্বত্তেও পায়রা সেতুতে জরিমানার ভয়ে গভীর রাতে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে মনোহরখালী ফেরী (পায়রা নদী) পার হয়ে এ ট্রাকগুলো চলাচল করে। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ফেরী কর্তৃপক্ষ ট্রাকগুলোকে নদী পার করে দেয়। অতিরিক্ত মাল বোঝাই ট্রাক চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবী জানান এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রীজের উপরে ট্রাক আটকে থাকায় দুই পাশের্ব প্রায় ২৫-৩০ টি যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীরা দূর্ভোগ চোহাচ্ছে। ব্রীজ থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করে অপসারন করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে ট্রাকের মালিক পক্ষের লোকজনকে কাজ করতে দেখা গেছে। দুপুর দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে ব্রীজ থেকে ট্রাকটি অপসারন করা সম্ভব হবে বলে চালক মনিরুল ইসলাম জানান।
পায়রাকুঞ্জ ফেরীর ইজারাদার মোঃ শাহজাহান মিয়া অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ট্রাক পারাপার করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- ট্রাকসহ যেকোন যানবাহন আসলে আমরা পার করে দিতে হয়। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ মলিহা খানম জানান, ব্রীজের পাটাতন ভেঙ্গে মাল বোঝাই ট্রাক দেবে যাওয়ার সংবাদ জানতে পেরে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ব্রীজ থেকে ট্রাকটি অপসারন করে ভেঙ্গে যাওয়া অংশ সংস্কার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু হয়।









