কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাকামইয়া ইউনিয়নের আনিপাড়ার খালের পুনর্খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভরাট হওয়া মরা খালে সচল হয়েছে পানির প্রবাহ। আশপাশের কৃষকরা এতে স্বস্তি প্রকাশ করেন। গত ২২ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের পুনর্খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলাপাড়ার ইউএনও কাউছার হামিদ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়িত স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) প্রকল্পের আওতায় এই খালটি পুনর্খনন করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন জানান, আনিপাড়া খাল পুনর্খননের ফলে এই এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে করে স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অন্তত তিন শ’ একর কৃষি জমি তিনফসলীতে রূপান্তরের সুযোগ পাবেন অন্তত ৪০০ কৃষক পরিবার। পরোক্ষভাবেও আশপাশের কৃষকের মিঠাপানি ব্যবহারের সুযোগ হয়েছে। রবিশস্য আবাদের পাশাপাশি বোরোর আবাদ করতে পারবেন কৃষক। পটুয়াখালী বিএডিসির সেচ বিভাগ খালের পুনর্খনন কাজটি সম্পন্ন করা হয়। কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন এতে সহযোগিতা করেছে।
চাকামইয়া ইউনিয়নের বাসীন্দা স্থপতি মো: ইয়াকুব খান জানান, অন্তত চার দশক ধরে তার এলাকায় কোন মরা কিংবা ভরাট খাল পুনর্খনন করা হয়নি। খালটিতে এখন পানির প্রবাহ সচল হয়েছে। এখন আশপাশের কয়েক শ’ কৃষক বোরো ধানের পাশাপাশি সবজির চাষাবাদ করার সুযোগ পাবে। তিনি পর্যায়ক্রমে সকল খাল পুনর্খনন করে পানির প্রবাহ সচল করার দাবি জানান।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, মরা, ভরাট হয়ে যাওয়া এসব খাল উদ্ধার করে কৃষকের স্বার্থে কৃষিকাজের ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, কৃষককে মিঠাপানির আধার তৈরির জন্য খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীলগঞ্জের কুমিরমারা এলাকায় আরো একটি মরা খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।









