‘জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক দেশ, দূর হোক সব অশুভ শক্তি’—এই প্রত্যাশা নিয়ে পটুয়াখালী জেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন মন্দির, বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
পূজা উপলক্ষে মন্দির ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণগুলো রঙিন আলপনায় সাজানো হয়, আর মন্দির চত্বর শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে উৎসবের আবহে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সরস্বতী দেবীর চরণে অর্পণ করা হয় পুষ্পাঞ্জলি, বই-খাতা, কলম ও বাদ্যযন্ত্র—যা জ্ঞান, শিক্ষা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক। পূজা শেষে বিভিন্ন মণ্ডপে শিশুদের ‘হাতেখড়ি’ অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরেও বিদ্যা ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতীর পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকায় শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে আয়োজকরা জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, সরস্বতী পূজা কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। এই পূজার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জ্ঞানচর্চায় আরও মনোযোগী হবে—এমনটাই তাঁদের প্রত্যাশা।









