পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।
রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি আলামিন খলিফাসহ ১৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৬ ডিসেম্বর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত আলামিন খলিফা চাকরির সুবাদে ওই ঘটনার আগে থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের দাবি।
মামলার বাদী আসাদুজ্জামান রাশেদ ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। তিনি গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাঙ্গাবালীর নয়া ভাঙ্গুনি মৌজায় ৪ দশমিক ৪৮ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কবলামূল সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারের সময় বাদী পক্ষ ও মামলার স্বাক্ষীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলে রাখেন।
মামলার স্বাক্ষী হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান গাজী (শিবলী), উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আব্দুর রব মাস্টার এবং উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (কিসলু)। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তাঁরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। অথচ মামলার এজাহারে তাঁদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি দখলের উদ্দেশ্যে কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আসাদুজ্জামান রাশেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।









