পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় খালের বাঁধে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের দেয়ালের ঢালাই খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সতীরাম বাঁধ এলাকায়। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত কালভার্টটির নির্মাণ কাজ করছেন আমীন ট্রেডার্সের ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার (০৩ জানুয়ারি) কালভার্টের দেয়ালের ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরদিন রোববার সকালে এলাকাবাসী দেখতে পান দেয়ালের ঢালাই অংশ খসে পড়ে গেছে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের দেয়ালের ঢালাই খসে পড়ে আছে এবং হাত দিয়ে টান দিলেই ঢালাই উঠে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ঢালাই ধসে পড়েছে। তারা আরও জানান, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে এবং ঠিকাদার সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্রমিকরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় তারা হুমকিস্বরূপ বলেন— “তোমাদের জানার কোনো দরকার নেই, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফ্যাসিবাদের নাম দিয়ে মামলা করে দেব।’’
এ বিষয়ে ঠিকাদার রুহুল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার পেয়ে কাজটি করছেন তিনি। কাজটির লাইসেন্স মেসার্স আমিন টেন্ডার্স-এর নামে রয়েছে।
ঢালাই ধসের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢালাইয়ের সময় সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় চাপা দেওয়া বাঁশ কে বা কারা সরিয়ে ফেলেছে, যার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি এবং এলজিইডির প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই অংশ ভেঙে ফেলে নতুন করে করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এধরণের কোনো ঢালাই কাজ করার পরে সেখানে ব্যবহৃত সাপোর্ট (বাঁশ বা কাঠ) গুলো কমপক্ষে দুইদিন পরে সরানো উচিত। ওনারা একদিন পরেই সরিয়ে ফেলেছে। আর ঠান্ডার কারণে ঢালাইটা ভালোভাবে লাগেনি। পরবর্তীতে আমি উপস্থিত থেকে ওই ঢালাইটি ভেঙে নতুন করে করিয়ে দিয়েছি।









