পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত দুই দিন ধরে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা নেমে এসেছে ৫০ মিটারের নিচে, ফলে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশার শিশিরে ভিজে সড়কগুলো পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনকে। বিশেষ করে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকরা।
এদিকে কুয়াশার পাশাপাশি ক্রমেই বেড়ে চলেছে শীতের তীব্রতা। খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টায় জেলার কলাপাড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে অন্যতম সর্বনিম্ন।
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, জেলে ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। শীত নিবারণের জন্য অনেককে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় মানুষদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আপাতত আরও কয়েকদিন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় যানবাহন চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং শীতার্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









