মহিপুর প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মহিপুরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা সংরক্ষিত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর তালিকাভুক্ত একটি ভোদর উদ্ধার করা হয়েছে। যা স্থানীয়দের কাছে ‘উদবিড়াল’ নামে পরিচিত।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মহিপুর থানা সদরের মনোহরপুর গ্রামের কবির হাওলাদারের বাড়ি থেকে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ ও অ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর যৌথ অভিযানে প্রাণীটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরার সময় ভোদরটি জালে আটকা পড়ে। পরে কিছু লোক প্রাণীটিকে পেটালে সেটি আহত হয়। পরবর্তীতে কবির হাওলাদার ভোদরটিকে বাড়িতে এনে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন।
এ বিষয়ে কবির হাওলাদার দাবি করেন, আহত অবস্থায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করে তিনি চিকিৎসা ও পরিচর্যা করছিলেন। বন্যপ্রাণী লালন-পালন করা যে আইনত অপরাধ, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা না বাড়লে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
অ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্য বায়েজিদ মুন্সি বলেন, ‘বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ভোদরটিকে নিরাপদ আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।’
বন বিভাগের মহিপুর সদর বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ঝিলন মিয়া বলেন, ‘ভোদর একটি সংরক্ষিত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী। আইন অনুযায়ী এ ধরনের প্রাণী আটক, শিকার বা লালন-পালন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরিবেশকর্মী কেএম বাচ্চু বলেন, ‘ভোদর প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী। অথচ অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে মানুষ এসব নিরীহ বন্যপ্রাণীর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বন্যপ্রাণী রক্ষা ও সংরক্ষণে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।’









