মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: স্থানীয়ভাবে বরইতলা, গাববাড়িয়া কিংবা সোনামুখি নদী বলা হয়। সোনাতলা নদীর সঙ্গে ডালবুগঞ্জগামী এই নদীতে এক সময় লঞ্চ চলাচল করত। খরস্রোতা এই শাখা নদীটির তীরে তীব্র ভাঙন ছিল। অন্তত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ শাখা নদীটি খাপড়াভাঙ্গা নদীর সঙ্গে যুক্ত ছিল।
২০১৫ সালে এই নদীতে ডালবুগঞ্জের মেহেরপুর ও মহিপুরের নিজশিববাড়িয়া গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে একটি বাঁধ (গাববাড়িয়া ক্লোজার) দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নদীটি কার্যত মারা পড়ে। যেন হত্যা করার শামিল। এখান থেকে স্লুইস করার দাবিতে কৃষকরা আন্দোলন করেছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এখন নদীটি মরে গেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ পেয়ারপুর গ্রাম ও মনোহরপুর গ্রামের সঙ্গে এই নদীটি পারাপার হতেন খেয়া নৌকায়। খেয়া এখনো আছে, কিন্তু চরের কাদা পেরিয়ে ভাটার সময় চলাচল করা যায় না। একারণে প্রায় দুই শ’ ফুট লম্বা একটি বাঁশের সাঁকোই এখন মানুষের ভরসা। কিন্তু সাঁকোটি অনেক ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষ এমন ভোগান্তির কবলে পড়েছেন।
এই সাঁকোটি পেরিয়ে ডালবুগঞ্জের পেয়ারপুর ছাড়াও নুরপুর, রসুলপুর, ফুলবুনিয়া, রমজানপুর ও ডালবুগঞ্জ গ্রামের একাংশের অন্তত দেড় হাজার পরিবার চলাচল করছেন। পেয়ারপুর আমেনা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী এবং অপরপাড়ের মোয়াজ্জেমপুর মাদ্রাসার অসংখ্য শিক্ষার্থী বাঁশের ঝুকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়ে চলাচল করছে।
২০২১ সালে স্থানীয় পিয়ারা বেগমের দেওয়া ৮০ হাজার টাকার যোগানের সঙ্গে গ্রামের মানুষের শ্রম ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তায় বাঁশের এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এতে ভোগান্তি লাঘব হলেও ঝুঁকি রয়ে গেছে প্রচন্ড। এখন সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। মেরামত কিংবা সংস্কার প্রয়োজন। তবে পিয়ারা বেগমের দাবি একটি ব্রিজ করা প্রয়োজন। তাইলে মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে।
স্থানীয় মানুষ আরো জানান, এই সাঁকোটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় তারা অনেকে নুরপুর ঘুরে ফুলবুনিয়ার খেয়া পার হয়ে কলাপাড়ায় যাওয়া আসা করেন। আবার কখনো তেগাছিয়া বাজার হয়ে যোগাযোগ করছেন। এতে ৫-৬কিলোমিটার বেশি পথ যেতে হয়। সময় বেশি লাগছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জেহাদী জানান, ওই জায়গায় একটি গার্ডার ব্রিজ করা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করবেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, সরেজমিনে পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।









