সরকারের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও চার দফা দাবিতে ‘বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি-বাসমাশিসের’ ব্যানারে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় ও পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ায় আজও বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ তাদের অভিভাবকরা।
এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা সম্পুর্ন প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসছিলাম। কিন্তু গতকাল এবং আজও পরীক্ষা না দিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
অভিভাবকরা বলছেন, পরীক্ষা দিতে এসে না দিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে আমাদের সন্তানদের। তারা অন্যসময় আন্দোলন করতো, পরীক্ষার ভেতরে করতে হবে কেন?। আমরা কাজকর্ম ফেলে রেখে সন্তানদের নিয়ে আসছি, পরীক্ষা শেষে আবার নিয়ে যাবো। কিন্তু পরীক্ষাই তো দিতে পারলো না। এতে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে।
তবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, সকল প্রস্তুতি নেওয়া থাকলেও পরীক্ষা নিতে পারছেন না। বারবার বলার পরেও তাদের কথা শুনছেন না কর্মবিরতি পালন করা শিক্ষকরা।
তারা বলছেন, উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে সবকিছু জানিয়েছি।
এদিকে কর্মবিরতি করা শিক্ষকদের দাবি, ‘সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা। বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন কার্যকর করা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুরি দেওয়া। ২০১৫ সালের আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের দুই থেকে তিনটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন-সুবিধা বহাল করা।’ দাবিগুলো মেনে নিলেই তারা কর্মবিরতি বাতিল করবেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, ‘পটুয়াখালী জেলার মধ্যে শুধুমাত্র দুইটি প্রতিষ্ঠানই কর্মবিরতি পালন করছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মহসিন উদ্দীন স্যারের নির্দেশে প্রতিষ্ঠান দুটোর প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, তাদের আদেশ মানছেন না কর্মবিরতি পালন করা শিক্ষকরা। আমি এ বিষয়ে লিখিত জবাব চেয়েছি। জবাব পেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক স্যারকে পাঠাবো। আশা করছি স্যার পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
প্রসঙ্গত, চার দফা দাবিতে ‘বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি-বাসমাশিসের’ ব্যানারে আন্দোলনরত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গত বৃহস্পতি ও রোববার রাজধানীর ‘শিক্ষা ভবন’ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দেন।









