আফ্রিকা মহাদেশের তৃতীয় স্বর্ণ উত্তোলনকারী দেশ সুদান।১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটি সূচনালগ্ন থেকেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, গৃহযুদ্ধ,বিদেশি শক্তির প্রভাব এবং সামরিক শাসনে জর্জরিত।
২০২৫ এর অক্টোবর মাসের শেষ তিন দিনে সুদানের আল ফাশের শহরে দুই হাজারের অধিক অধিবাসীকে হত্যা করেছে সুদানের বিদ্রোহী আধা সামরিক বাহিনী (আরএসএফ)। যার মূলে রয়েছে জাতিগত দ্বন্দ্ব। পদাধিকার বলে সুদানের সেনাবাহিনী (এসএএফ) ‘র প্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল বুরহান দেশটির প্রেসিডেন্ট। অপর দিকে সুদানের আধা সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে হামদান দাগালো হেমদতি। এই দুই পক্ষের ক্ষমতার লড়াই বর্তমান সুদানের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সুদান বর্তমান বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাব আল মান্দেব প্রণালী সুদানের নিকটে অবস্থিত যেটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুয়েজ খালে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। সুদানের রাজধানী খার্তুমে নীল নদের দুটি শাখা হোয়াইট নীল ও ব্লু নীল একত্রিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে। স্বর্ণের খনির পাশাপাশি সুদানে জিংক, ক্রোমিয়াম, কপার, তেল ইত্যাদির খনি রয়েছে যার উপর বিশ্ব মোড়লদের নজর বিদ্যমান।বিদ্রোহী আরএসএফ এর সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুসম্পর্ক রয়েছে যার ফলশ্রুত তারা কম দামে আমিরাতে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ পাচার করে থাকে। রাশিয়ার সাথেও এই গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। অপর দিকে সুদানের সেনাবাহিনী মূলত মিশর ও সৌদি আরবের মদদপুষ্ট। বিদেশি শক্তি গুলো অস্ত্র,প্রযুক্তিগত,আর্থিক ইত্যাদি সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের মদদপুষ্ট বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।
স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান খনিজের নিয়ন্ত্রণ সুদানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই স্বর্ণের খনি সুদানকে অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্রের আগ্রহের বস্তুতে পরিণত করেছে।
লোহিত সাগরের তীরবর্তী এই দেশটিতে ৫০০ এর অধিক জাতিগোষ্ঠীর বাস। জন্মের পর থেকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় গৃহযুদ্ধে লিপ্ত আফ্রিকান এই দেশটি। পরিসংখ্যান মতে, সুদানে প্রতি চার জন ব্যক্তির মধ্যে একজন বাস্তুচ্যুত। আরব এবং অনারব দ্বন্দ্বে ভোটাভুটির মাধ্যমে দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্ত পশ্চিমাঞ্চলের দারফুরে এই সংকট এখন ও চলমান। যার ফলস্বরূপ দারফুরের শহর ফাশেরে সেনাবাহিনীকে হটিয়ে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় আরএসএফ।
২০১১ সাল থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ লোক দ্বন্দ্ব সংঘাতের ফলে মৃত্যবরণ করেছে। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুগের পর যুগ কেটে গিয়েছে, ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে বহুবার কিন্তু নীল নদের এই দেশটির জনগণের দীর্ঘকালীন শান্তি মেলেনি ।









