দশমিনা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা থেকে বঞ্চিত কয়েক হাজার সেবাগ্রহিতা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০ ঘটিকা থেকে দুপুর ২ ঘটিকা পর্যন্ত তালা বদ্ধ আউলিয়াপুর কমিউনিটি ক্লিনিক। সেবা নিতে আসা লোক গুলো অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছে। এ ভাবে গত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তালা বদ্ধ থাকে আউলিয়াপুর কমিউনিটি ক্লিনিক স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নর আউলিয়াপুর গ্রামে সাধারন জনগনের স্বাস্থ্য সেবায় চলমান কমিউনিটি ক্লিনিক। উক্ত কমিউনিটি ক্লিনিকে গত রবিবার (২ নভেম্বর) থেকে সেবাদান বন্ধ আছে। এলাকার সাধারণ রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা নিতে এসে তালা বদ্ধ দেখে চলে যায়।
ঐ কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রভাইটার(সিএইচ সিপি) হিসাবে দায়িত্বে আছে মাহাউদ্দিন লাবু। বাহাউদ্দীন লাবু স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগের দশমিনা উপজেলা শাখার সদস্য হিসাবে থাকায় গত রবিবার মধ্য রাতে দশমিনা থানা পুলিশ “ডেভিল হান্ট” অভিযানে গ্রেফতার করেন। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে আছে। তার অনুপস্থিতিতে ঐ কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাদান কার্যক্রম বন্ধ আছে। প্রতিদিন এলাকার সেবাগ্রহীতরা এসে সেবা না পেয়ে চলে যায় এতে করে এলাকার লোক জনের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হয়।
কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা মমতাজ বেগম বলেন, আমার কয়েদিন পর্যন্ত টান্ডা জ্বর ও মাতা ব্যাথা। দুই(বুধ ও বৃহস্পতি) দিন ক্লিনিকে আসি তালা বন্ধ পাই তাই চলে যাই।
ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা অপর সেবাগ্রহীতা গাজী হাসান বলেন, এ ভাবে কখোনই ক্লিনিক বন্ধ ছিলোনা। আমার কয়েকদিন জ্বর, গলাব্যাথা, মাথা ঘুরায় এখানে এসে কমিউনিটি ক্লিনিক তালাবদ্ধ পাই। আমার মতো অনেকে এসে প্রতিদিন ফিরে যায়।
আউলিয়াপুর ইউপি সদস্য অসি সমাদ্দার আজকের পত্রিকাকে জানান, এলাকার সাধারণ জনগনের স্বাস্থ্য সেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক। গত রবিবার থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ দেখায় যায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লোক জন এসে তালা বদ্ধ দেখে চলে যায়। আমি লোকদের কাছে শুনতে পারি কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে জিনি আছেন তিনি জেলে। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকার লোকজনদের স্বাস্থ্য সেবায় ক্লিমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হউক।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম ক্লিনিক বন্ধ। ক্লিনিকের দায়িত্বে জিনি আছেন তিনি জেলে। তার বিষয় নিশ্চিত হবার জন্য দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর চিঠি দিয়েছি। তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পর সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বরাবর পাঠানো হবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমি বাস্তবায়ন করবো। আমার কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা।









