বহিরাগতদের মাদক সেবনে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন আনন্দবাজার এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগকর্মী তাজের নেতৃত্বে ছাত্রদলের যুগ্মসম্পাদক ইমরান মাহমুদুলসহ তিন কর্মীর ওপরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলার অভিযোগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী ঢাকা- পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে আসামীদের গ্রেফতারের আশ্বাসে দশ মিনিট পড়ে ছেড়ে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকর্মী তাজ বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী সাব্বির, হিমেল, বাঁধনসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে সাথে নিয়ে হামলা করে বলে জানাগেছে। তাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাজের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতা ইমরান মাহমুদুল, জনি ও আসিকের ওপরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও মাদকের একটি মামলায় তাজকে আটক করেছিল পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ছোট ব্রিজ সংলগ্ন নলসিটি হাউজিংয়ের মধ্যে আজ বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে মাদকসেবনরত (গাজা) অবস্থায় আটক করে ছাত্রদল নেতা ইমরান মাহমুদুলসহ তিন থেকে চারজন। আটকের পরে বহিরাগত ছাত্রলীগকর্মীদের সেখানে মাদক সেবন করতে নিষেধ করে এবং চড়থাপ্পড় দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকর্মী তাজের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে ইমরান মাহমুদুলসহ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীর ওপরে অতর্কিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্মসম্পাদক ইমরান মাহমুদুল বলেন, বিকেলে নলছিটি হাউজিংয়ে প্রকাশ্যে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের তিনকর্মীর মাদক সেবনে বাঁধা দেয় ছাত্রদলকর্মী আশিক ও জনি। বাধা দিলে ওরা বাকবিতন্ডা করে পরে আমি বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। পরবর্তীতে আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম আনন্দবাজারে ফরেনের দোকানে ঐখানে ছাত্রলীগকর্মী তাজ ১৫-২০ টা বাইকে বহিরাগত ছাত্রলীগকর্মীদের নিয়ে আমাদের ওপরে হামলা করেছে। এর বিচার হতেই হবে তাদের এতবড় সাহস হয় কীভাবে বহিরাগতদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলা চালনোর।
ছাত্রলীগকর্মী তাজ ফেসবুক পোস্টে হামলার ঘটনার নিন্দ্বা জানিয়ে লিখেছে, “বিকেলে ছোট ব্রিজের নিচে, হাউজিং এলাকায়, আমার শহরের দুইজন বন্ধু ঘুরতে গেলে সেখানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী-জনি (১১তম ব্যাচ), ইমরান (১০ম ব্যাচ) ও আসিক (১৩তম ব্যাচ)-তাদের পথরোধ করে এবং বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।
একপর্যায়ে তাদের জানানো হয় যে, তারা আমার পরিচিত। আমার পরিচয় দেওয়ার পরও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তিনজন আমার দুই বন্ধুর গায়ে হাত তোলে। পরবর্তীতে তাদের আনন্দবাজারে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে আমাদের বন্ধুদের উদ্ধার করি। আমি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ব্যক্তিগত বিরোেধ কিংবা পরিচয়ের অজুহাতে কাউকে হেনস্তা করা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা বা আটকে রাখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ছাত্রলীগ কর্মী তাজ বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের যুগ্মসম্পাদকসহ তিন কর্মীর ওপরে হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে আমাদের লোকজন কম থাকায় তারা হামলা করে পালিয়ে যায়। হামলা করায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে পরবর্তীতে আসামীদের গ্রেফতারের আশ্বাসে মহাসড়ক ছেড়ে দেয়া হয়েছে।”
বরিশাল বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় মাদক সেবনে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে একটি বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রলীগকর্মী তাজ হামলা করেছে কিছু শিক্ষার্থীর ওপরে। হামলার প্রতিবাতে কিছু শিক্ষার্থী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে কিছুক্ষণ এখন জান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।









