পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৩ নম্বর ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নাম অন্তর্ভুক্তি ও পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরকুজানা এলাকায় বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তারা
কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হওয়ার পরও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। সম্প্রতি কৃষক দলের সার ডিলারশিপ লাইসেন্স অনুমোদন ও কমিটি গঠনসংক্রান্ত বিষয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, পুরকুজানা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গত ৭ মার্চ ২০২৪ তারিখে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির ১২ নম্বর ক্রমিকে মো. কামাল হাওলাদারের নাম উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কমিটির তালিকায় কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিবর্তন এনে মো. কামাল হাওলাদারের পরিবর্তে মো. আমিনুল ইসলামের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি পৃথক বিবৃতিও পাওয়া গেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩ নম্বর ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের কমিটি ঘোষণা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিটির তালিকায় মো. কামাল হাওলাদারের নামের পরিবর্তে মো. আমিনুল ইসলামের নাম লেখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, কমিটির মূল তালিকায় মো. আমিনুল ইসলামের নাম ছিল না।
অন্যদিকে, আবেদনকারী লিটন হাওলাদার তাঁর আবেদনে সার ডিলারশিপ লাইসেন্স অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুপারিশে সার ডিলারশিপ লাইসেন্স দেওয়া হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একই পরিবারের ব্যক্তিদের নতুন করে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। উক্ত বিষয়ে ইতি মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখা লিখি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সার ডিলারশিপ লাইসেন্সের বিষয়ে গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি নিজে কিংবা বিএনপির ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লাইসেন্স অনুমোদন পাননি বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।
এ অবস্থায় কমিটি গঠন, তালিকায় নাম পরিবর্তন এবং সার ডিলারশিপ লাইসেন্সসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. আমিনুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠনকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।









