পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১০ মাসের শিশু রাইয়ান হত্যা মামলার প্রধান আসামি আল-আমিনকে (৫০) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। কলাপাড়া উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, শিশু রাইয়ান হত্যা মামলার প্রধান আসামি আল-আমিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে কলাপাড়া থানা পুলিশ। কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম।
এর আগে, নিখোঁজের ৫৩ ঘণ্টা পর গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের খাল থেকে শিশু রাইয়ানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কাপড়ের তৈরি একটি বাজারের ব্যাগের মধ্যে কচুরিপানার নিচে মরদেহটি পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বেলা ১১টার দিকে দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে কচুরিপানার মধ্যে ব্যাগটি দেখতে পেয়ে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
গত ১৫ অক্টোবর ভোর থেকে ঘুটাবাছা গ্রামের শিশুটি নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজের দিন বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির মা রুমা বেগম কলাপাড়া থানায় আল-আমিনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে পাঠায়। গ্রেপ্তার আল-আমিন নিহত শিশুটির আপন খালু।
রুমা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর দুগ্ধপোষ্য সন্তান রাইয়ান বাবা রাসেলের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে ঘুম থেকে উঠে তিনি ঘরের বাইরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে এসে দেখেন, রাইয়ান নেই। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পুকুরে তল্লাশি চালানো হয় এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু কোথাও রাইয়ানের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শিশুটির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিষ্পাপ শিশুটির সঙ্গে এমন ঘটনা কেন ঘটল, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত এবং দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই দাবিতে রোববার কলাপাড়া পৌর শহরের কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে ছাত্র-জনতার ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আমরা কাজ করছি। মামলার প্রধান আসামি নিহত শিশুর আপন খালু আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নে শিশু রাইয়ান হত্যার ঘটনাটি এখন সর্বত্র আলোচিত। পরিবারের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাইয়ানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এখনও প্রতিদিন শত শত মানুষ শিশুটির বাড়িতে যাচ্ছেন।
আজ সোমবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন নিহত শিশু রাইয়ানের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি সন্তান হারানো দম্পতিকে সান্ত্বনা দেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের পাশে অবস্থান করেন। পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।








