পটুয়াখালীর বাউফলে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেছেন, “আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে সুন্দর দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে হবে। কোনো দুষ্কৃতিকারী যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে কিংবা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় উৎসবে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।”
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বাউফলের বগা সার্বজনীন কালীমন্দির, পালপাড়া কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে কিছু দুষ্কৃতকারী অপচেষ্টা চালাতে পারে। যেমন, ক্ষেতের ফসল পোকামাকড়ের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি কিছু অসাধু ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন বিনষ্ট করার চেষ্টা করে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে, যাতে কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নোট করা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য বলেন, সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকার যেন প্রত্যেকে সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। মুসলমানরা যেমন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন, তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও কোনো ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি কিংবা বাধা ছাড়াই শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চান।
মন্দিরের উন্নয়ন ও সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও মসজিদের উন্নয়ন-সংস্কারের পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মন্দিরের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় বগা সার্বজনীন কালীমন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সৌরভ পাল, কাজল কর্মকার এবং পালপাড়া কালীমন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব পাল বক্তব্য দেন। তাঁরা মন্দিরের বিভিন্ন বিষয় ও তাঁদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বগা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক পটুয়াখালী জেলা অফিস সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা হেলাল মুন্সি, পৌর সেক্রেটারি মো. নুরুল আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বাউফল উপজেলা সহসভাপতি মাস্টার মুহাম্মদ রেদওয়ান উল্লাহ, উপজেলা অফিস সম্পাদক এসডি শিবলী, উপজেলা বাইতুল মাল সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।









