পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা। একই সঙ্গে ই-সিগারেট, ভেপ ও নিকোটিন পাউচসহ বিভিন্ন তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও ইন্দ্রজীত সাহা।
সভাপতির বক্তব্যে ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রচলিত তামাকজাত দ্রব্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভেপ ও নিকোটিন পাউচের ব্যবহারও উদ্বেগের বিষয়। এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় স্থানীয় সরকার গাইডলাইন অনুসরণ করে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), দেবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও সাংবাদিক জাকির হোসেন রাজু, পৌর নির্বাহী সাখাওয়াদ আলী, দেবীগঞ্জ উপজেলা জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি আব্দুল গনি বসুনিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন কুমার বর্মন এবং পল্লী সাহিত্য সংস্থার সমন্বয়কারী আব্দুর রাশেদ বাদল।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পল্লী সাহিত্য সংস্থার পরিচালক হারুন অর রশিদ। এ সময় স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করে এনআইএলজি, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট ও বাটা। অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করে এনআইএলজি ও পল্লী সাহিত্য সংস্থা।
সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেবীগঞ্জে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়বে এবং তামাকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে।









