বরগুনার আমতলীতে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে মাছ ধরার জালের রশি ও পুঁতে রাখা খুঁটি অপসারণ করতে গিয়ে ওমর আলী গাজী (৪৮) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে নদীর মাঝখানে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ওমর আলী আমতলী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাকিম গাজীর ছেলে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে বুধবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ কারণে জেলে ওমর আলী নিজের নৌকা নিয়ে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে জাল ধরার সরঞ্জাম, রশি ও পুঁতে রাখা খুঁটি অপসারণ করতে যান। নদীর মাঝখানে খুঁটি অপসারণের সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে তিনি পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। দূর থেকে কয়েকজন জেলে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ছুটে এসে তার সন্ধান করেন। তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে স্থানীয়রা আমতলী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে পটুয়াখালী থেকে ডুবুরি দল এসে অভিযানে যোগ দেয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ জেলে ওমর আলীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আমতলী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজার (লিডার) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমতলী ও পটুয়াখালীর ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
নিখোঁজ জেলে ওমর আলীর স্ত্রী জসিমন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী আর নাই। সংসারের উপার্জনকারী মানুষটা এভাবে চলে গেলে পাঁচ মেয়ে নিয়ে কীভাবে বাঁচব? আল্লাহর কাছে শুধু আমার স্বামীর মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চাই।” এ সময় তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস বলেন, “ওমর আলী একজন আদর্শ জেলে। তিনি সরকারের সব নির্দেশনা মেনে মাছ শিকার করতেন। বৃহস্পতিবার থেকে মা ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় বুধবার জাল ধরার সরঞ্জাম, নদীতে পুঁতে রাখা খুঁটি ও রশি অপসারণ করতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, নিখোঁজ জেলের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।









