পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের ভাতের খাবার হোটেলগুলোতে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার অধিকাংশ হোটেলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয় না। বাসি-পচা খাবার বিক্রির পাশাপাশি একদিনের উদ্বৃত্ত মাছ, মাংস ও সবজি পরবর্তী দিনের খাবারের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, হোটেলগুলোর রান্নাঘর ও পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। অনেক ক্ষেত্রে খাবার ঢাকনা ছাড়া ফেলে রাখা হয়, ফলে মশা-মাছি, ধুলোবালি ও বিভিন্ন ধরণের জীবাণু খাবারে পড়ছে। নিয়মিত হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করেন এমন একাধিক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজের প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই আমাদের হোটেলে খেতে হয়। কিন্তু প্রায়শই পচা-বাসি ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করায় আমরা গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হচ্ছি। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা অবাধে এসব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
এ বিষয়ে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ নুরুল আলম বখতিয়ার বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে হোটেলগুলোতে তদারকি পরিচালনা করছি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বাসি খাবার বিক্রির প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুব শীঘ্রই হাট-বাজারগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
অস্বাস্থ্যকর খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার জানান, বাসি, পচা ও খোলা খাবার গ্রহণের ফলে মানবদেহে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাবার হোটেলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং টাটকা খাবার পরিবেশন করা অত্যন্ত জরুরি।








