পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত নতুন কমিটিকে ‘অনিয়মতান্ত্রিক পকেট কমিটি’ ও নিষ্ক্রিয়দের কমিটি আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় দুমকি জমজম রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দুমকি উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘোষিত দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে দলের গঠনতন্ত্র পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে নিষ্ক্রিয়, অরাজনৈতিক ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির বিভিন্ন পদে আসা নেতাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগও তুলে ধরা হয়। সভাপতি মো. জাকির হোসেন মিলন সম্পর্কে বলা হয়, তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন এবং মাঠপর্যায়ের কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না। উল্টো তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সুবিধাভোগী নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান লাল মিয়া সম্পর্কে অভিযোগ করা হয়, তিনি অতীতে জাতীয় পার্টির কর্মী ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্যকে ফুল দিয়ে বরণ করার নজির রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম রুবেল দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান শেষে দেশে ফিরে ব্যবসার কাজে যুক্ত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগে তাঁর দলীয় কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার প্রমাণ নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এ ধরনের অযোগ্য ও বিতর্কিত কমিটি গঠনের কারণে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে ‘পকেট কমিটি’ বাতিল এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়।









