পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রেকর্ড কিপার সাহিদা সুলতানার বিরুদ্ধে আদালতের চাকরির প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশীর জমি দখলের চেষ্টা, একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কিসমত ঝাটিবুনিয়া গ্রামে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে রনি হাওলাদার মঙ্গলবার পটুয়াখালী জেলা জজ ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিসমত ঝাটিবুনিয়া গ্রামের রনি হাওলাদার গং পৈতৃক সূত্রে ৭৪ শতাংশ জমির মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমির ২০৮ ও ১৯৯ নম্বর দাগে তাদের বসতঘর ও বাবা-মায়ের কবরস্থান রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাহিদা সুলতানা আদালতের চাকরির প্রভাব ব্যবহার করে ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, মির্জাগঞ্জ থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও আদালতে একাধিক অভিযোগ ও মামলা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ সাহিদা সুলতানা তার কর্মরত আদালতে মামলা করে পরিবারটিকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই মামলার নম্বর ৫৯/২০২৩।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহিদা সুলতানা ২০০৯ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেকর্ড কিপার পদে যোগ দেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এদিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধমকি এবং আদালতের প্রভাব খাটানোর অভিযোগের কিছু ভিডিও ও অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। একটি ভিডিওতে সাহিদা সুলতানা ও তার ভাই শাহজাদা সোহাগকে প্রতিবেশী পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, সাহিদা সুলতানা আদালত ও পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়াচ্ছেন। তার বাবা মোতাহার উদ্দিন ঝন্টু মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য এবং তার ভাই শাহজাদা সোহাগ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
রনি হাওলাদার বলেন, “তিনি বর্তমানে পটুয়াখালী আদালতে কর্মরত থাকায় আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। তাকে অন্যত্র বদলি না করা হলে আমরা সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারি।”
অভিযোগের বিষয়ে সাহিদা সুলতানা বলেন, “জমিজমা নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ রয়েছে। তবে আদালতের প্রভাব খাটিয়ে আমি কাউকে ফোন দিইনি।”
পটুয়াখালী জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।”









