সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে কয়েক দিন পরই শিশুটির পঞ্চম শ্রেণির দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। অথচ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তার বিয়ের পূর্ণ প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় ঘটে বিপত্তি। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আখতার এবং মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদারের নেতৃত্বে একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভেস্তে যায় ওই শিশুর বিয়ের সব আয়োজন।
স্কুলের ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির বয়স ১২ বছর ১ মাস ২৪ দিন। আপাতত বাল্যবিয়ের কবল থেকে ওই শিশু রক্ষা পেলেও, অসচেতন মা-বাবা যে নির্ধারিত পাত্রের সঙ্গে সুযোগ বুঝে পরবর্তী সময়ে যেকোনো সময় বিয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন—এমন আশঙ্কা রয়েছে।
ঘটনাটি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের। অভাবের সংসার। মঙ্গলবার দুপুরে ওই শিশুর পরিবারের মোবাইল ফোনে কল করলে শিশুটির মা পরিচয় দিয়ে বিয়ের প্রস্তুতির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। তিনি জানান, বিয়ের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিক পর্বও সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে বিকেলের পর থেকে পরিবারের আর কেউ মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, বাল্যবিয়ের বিষয়টি শিশুটির অধিকাংশ সহপাঠী জানত। তাদের মাধ্যমেই বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছে। পরে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের কবল থেকে আপাতত রক্ষা পায় পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিশুটি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, শিশুশিক্ষার্থীর মা-বাবাকে ডেকে আনা হয়েছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।









