জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়ায় ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অন্তত ২০ হাজার পরিবার বসতভিটা ও জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন উপকূলীয় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে পরিচিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলও ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৪৮, ৪৭/১ ও ৫৪/এ নম্বর পোল্ডারের বিভিন্ন অংশ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ উপকূলীয় বাঁধের অনেক অংশে স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় সামান্য জলোচ্ছ্বাসেও ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও অনেক স্থানে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা জানান, উপকূলীয় বনভূমি ধ্বংস, দখল, বালু উত্তোলন এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। একসময় যে বনাঞ্চল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঢেউয়ের শক্তি কমিয়ে দিত, এখন তার বড় অংশই বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে বহু কৃষক ও জেলে পরিবার জমি ও জীবিকা হারিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, চাষাবাদের জমি, পুকুর ও বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে নদীর তীর বা বাঁধের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানেও রয়েছে নতুন করে ভাঙনের শঙ্কা।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাঁধ নির্মাণ করেই উপকূল রক্ষা সম্ভব নয়। টেকসই উপকূল ব্যবস্থাপনার জন্য ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ, নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবেশসম্মত পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানলে কলাপাড়ার বিস্তীর্ণ উপকূল ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উপকূলীয় বাঁধের টেকসই সংস্কার, বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক, যাতে উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হয়।









