কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটের বাংলা বিষয়ের প্রভাষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ মানজুর সোমবার রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার সই করা এক অফিস আদেশে রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অবহেলার অভিযোগ এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও অনলাইনে প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে বসে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র হাতে নিয়ে কাজ করছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর পরীক্ষকের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বরখাস্ত হওয়ার পর একটি ভিডিও বার্তায় অভিযুক্ত পরীক্ষক রিপন হোসেন দাবি করেন, তিনি নিজেই উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ করেছেন। শুধু পরীক্ষক কর্তৃক পূরণীয় কিছু ওএমআর বৃত্ত ভরাট বাকি ছিল। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং চোখে সমস্যা থাকায় তার উপস্থিতিতে বৃত্ত ভরাটের জন্য কয়েকজন ছাত্রের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। এ কাজের মাঝেই তিনি অফিসকক্ষে যান। এভাবে দায়িত্ব অবহেলার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর বলেন, অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রভাষক রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে।
রাঙ্গাবালীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
এর আগে দৈনিক গণদাবী পত্রিকার ফেসবুক পেইজে শিক্ষার্থীদের হাতে পরীক্ষার উত্তরপত্রসহ ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা বিষয়ের ৩৫০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন রিপন হোসেন। আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে এসব উত্তরপত্র বোর্ডে জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর উত্তরপত্রের গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।









