• আমাদের সম্পর্কে
  • প্রাইভেসি
  • যোগাযোগ
Tuesday, August 4, 2026
Daily Gano Dabi
No Result
View All Result
  • Login
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • সারাদেশ
  • রাজনীতি
  • পটুয়াখালী
    • পটুয়াখালী সদর
    • দুমকি
    • মির্জাগঞ্জ
    • বাউফল
    • গলাচিপা
    • দশমিনা
    • কলাপাড়া
    • রাঙ্গাবালী
  • সম্পাদকীয়
  • বিনোদন
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • খেলাধুলা
  • ধর্ম
  • স্বাস্থ্য
  • ভিডিও গ্যালারি
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • সারাদেশ
  • রাজনীতি
  • পটুয়াখালী
    • পটুয়াখালী সদর
    • দুমকি
    • মির্জাগঞ্জ
    • বাউফল
    • গলাচিপা
    • দশমিনা
    • কলাপাড়া
    • রাঙ্গাবালী
  • সম্পাদকীয়
  • বিনোদন
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • খেলাধুলা
  • ধর্ম
  • স্বাস্থ্য
  • ভিডিও গ্যালারি
No Result
View All Result
Daily Gano Dabi
No Result
View All Result
Ecom Digital Technology Ecom Digital Technology Ecom Digital Technology
Home পটুয়াখালী গলাচিপা

সাগরে বাঁচার আকুতি: তদারকি আর লাইসেন্সবিহীন ট্রলারে ঝুঁকিতে হাজারো জেলের জীবন

সুমন খান, গলাচিপা।

গণদাবী রিপোর্ট by গণদাবী রিপোর্ট
August 4, 2026
in গলাচিপা, পটুয়াখালী
0
সাগরে বাঁচার আকুতি: তদারকি আর লাইসেন্সবিহীন ট্রলারে ঝুঁকিতে হাজারো জেলের জীবন
0
SHARES
4
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter
ECom Digital Technology ECom Digital Technology ECom Digital Technology

গলাচিপার কোনো ট্রলারেরই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার লাইসেন্স নেই, তবু বছরের পর বছর সাগরে যাত্রা।

“মা, দোয়া কইরো। মাছ পাইলে দুই-তিন দিনের মধ্যে আমি আর আব্বা ফিরমু…”

আরো পড়ুন

পবিপ্রবি’র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত

এটাই ছিল গজালিয়া ইউনিয়নের তরুণ জেলে আবু সাইমের মায়ের সঙ্গে শেষ ফোনালাপ। এরপর আর কোনো ফোন আসেনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে বৈরী আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ডুবে গেছে মাছ ধরার ট্রলারটি। কেউ প্রাণ বাঁচাতে সাঁতরে ফিরেছেন, কেউ অন্য ট্রলারে উদ্ধার হয়েছেন। কিন্তু আবু সাইম ও তাঁর বাবা ফোরকান সিকদার যেন সমুদ্রের অতলেই হারিয়ে গেছেন। আজও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলে নদীর ঘাটের দিকে চেয়ে থাকেন সাইমের মা। দূর থেকে কোনো ট্রলার ভিড়লেই বুকের ভেতর একবার আশার আলো জ্বলে ওঠে—”হয়তো এবার আমার ছেলে ফিরবে।” কিন্তু প্রতিবারই সেই আশা ভেঙে যায়।

স্বামী-ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। কোনো দিন একবেলা খাবার জোটে, কোনো দিন সেটিও জোটে না। ছোট ছেলে ঢাকার ফতুল্লার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়ে। প্রতি মাসে চার হাজার টাকা পাঠানোর সামর্থ্যও আর নেই। শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্ব। ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগলেও চিকিৎসার টাকাও নেই তাঁর হাতে।

 

# ঋণের বোঝা ঘোচাতে গিয়েই হারিয়ে গেলেন আক্কাস

 

নিখোঁজ জেলে আক্কাসের স্ত্রী প্রাপ্তি জানান, সংসারের অভাব, মাথার ওপর প্রায় ৬০ হাজার টাকার ঋণ আর ছোট্ট সংসারটাকে একটু স্বস্তি দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই জীবনে প্রথমবারের মতো গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তাঁর স্বামী।

যাওয়ার আগে বলেছিলেন— “এই ট্রিপ থেকে ফিরে এলেই ঋণের বোঝা কিছুটা কমবে। আমাদের দিনও একদিন ফিরবে।” সেই স্বপ্ন আজ শুধুই স্মৃতি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রাপ্তি বলেন, “সংসারের অভাবই ওকে সাগরে নিয়ে গেছে। জীবনে কোনো দিন গভীর সমুদ্রে যায়নি। ভালোভাবে সাঁতারও জানত না। তবুও আমাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল। এখন আমার ছোট্ট মেয়েটা সারাক্ষণ বাবাকে খোঁজে। আমি ওকে কী বলব? কীভাবে বোঝাব, তার বাবা হয়তো আর কোনো দিন ফিরবে না? প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়, দরজায় কড়া নেড়ে ফিরে এসে বলবে—’আমি এসেছি।’ কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, সেই আশাটুকুও ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখন আর কোনো স্বপ্ন নেই, কোনো দাবি নেই। শুধু আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা—অন্তত ওর মরদেহটা যেন ফিরে আসে। শেষবারের মতো মুখটা দেখে দাফন করতে চাই।”

একটি ট্রলারডুবি, পাঁচটি পরিবারে অনন্ত অপেক্ষা

গত ৫ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ১১ জেলেকে নিয়ে মাছ ধরছিল ট্রলারটি। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

পরদিন পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। চার দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন আল আমিন।

কিন্তু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ জেলে— হারুন হাওলাদার,এমাদুল,ফোরকান,সায়েম,আক্কাস।

পাঁচটি পরিবার আজও অপেক্ষা করছে—কেউ হয়তো জীবিত ফিরবেন, নইলে অন্তত মরদেহটি ফিরে আসবে।

 

“সময়মতো উদ্ধার হলে আরও পাঁচজন বাঁচতে পারতেন”

জীবিত ফিরে আসা জেলে আল আমিন দাবি করেন,

“তিন দিন উল্টে থাকা ট্রলারের ওপর ছিলাম। এক দিন পাট আঁকড়ে সাগরে ভেসে ছিলাম। ওই সময় কোস্ট গার্ড বা নৌবাহিনীর কোনো উদ্ধারকারী জাহাজ চোখে পড়েনি। সময়মতো কার্যকর উদ্ধার অভিযান হলে নিখোঁজ পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “গত কয়েক বছরে কোস্ট গার্ড বা নৌবাহিনী সমুদ্র থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধার করেছে, কোনো মরদেহ উদ্ধার করেছে কিংবা ডুবে যাওয়া ট্রলার উদ্ধার করেছে—এমন ঘটনা আমি দেখিনি বা শুনিনি। শুধু গণমাধ্যমে উদ্ধার অভিযানের কথা শুনেছি।”

সম্প্রতি গলাচিপা থেকে গভীর সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা আবারও সামনে এনেছে পুরোনো প্রশ্ন—কেন বারবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে ? এটি কি শুধুই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল, নাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, দুর্বল তদারকি ও আইনের অপর্যাপ্ত বাস্তবায়নও এর জন্য দায়ী ?

গলাচিপা উপজেলার একটি ট্রলারেরও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বৈধ লাইসেন্স নেই। অথচ বছরের পর বছর এসব ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাচ্ছে। প্রতিবছর ট্রলারডুবিতে প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকি এবং আইন বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—লাইসেন্স, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, তদারকি ও সমন্বয়ের ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই উপকূলের জেলেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

উপকূলের হাজারো পরিবারের কাছে বঙ্গোপসাগর শুধু একটি জলরাশি নয়; এটি তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। প্রতিদিন গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন ঘাট থেকে মাছ ধরার ট্রলার গভীর সমুদ্রের উদ্দেশে যাত্রা করে। কারও লক্ষ্য সংসারের খরচ চালানো, কারও ব্যাংক বা এনজিওর ঋণ পরিশোধ, আবার কারও আশা—একটি ভালো মাছের মৌসুমেই বদলে যাবে ভাগ্য। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রাই অনেক সময় পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে।

প্রতিবছরই বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। কেউ বৈরী আবহাওয়ায় নিখোঁজ হন, কেউ যান্ত্রিক ত্রুটিতে দুর্ঘটনার শিকার হন, আবার কেউ উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে আর তীরে ফিরতে পারেন না। দুর্ঘটনার পর কয়েকদিন ধরে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার উদ্ধার অভিযান চলে। নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের আহাজারি গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর সেই আলোচনা থেমে যায়। অথচ যে পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারায়, তাদের জন্য শোক, অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক সংকট বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে।

 

#আইনের কঠোর বিধান, বাস্তবতায় প্রশ্ন:

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিকভাবে মাছ ধরার জন্য নির্ধারিত লাইসেন্স, নিবন্ধন এবং সরকারের শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে সমুদ্রগামী প্রতিটি ট্রলারে নির্ধারিত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জীবনরক্ষাকারী উপকরণ থাকা আইনি বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাস্তবে গলাচিপা থেকে গভীর সমুদ্রে যাওয়া অধিকাংশ ট্রলারে এসব শর্ত কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কোনো ট্রলারেরই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার লাইসেন্স নেই। বর্তমানে ১৯০টি অনুমতিপত্র রয়েছে, যা শুধুমাত্র উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার জন্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই বহু ট্রলার বছরের পর বছর সাগরে যাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠেছে, যখন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বৈধ লাইসেন্স নেই, তখন এসব ট্রলার কীভাবে নিয়মিত গভীর সমুদ্রে যাচ্ছে ? সমুদ্রযাত্রার আগে ট্রলারগুলোর নিরাপত্তা সরঞ্জাম, সক্ষমতা ও আইনি বৈধতা যাচাইয়ের দায়িত্ব কোন সংস্থা পালন করছে ? দুর্ঘটনা ঘটার পর উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগ কতটা রয়েছে—সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ECom Digital Technology ECom Digital Technology ECom Digital Technology

 

 

#সরকারি তথ্যেও নেই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ হিসাব:

এদিকে সরকারি হিসাবেও ট্রলারডুবির পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৪ জন জেলে নিহত হয়েছেন। আর এ বছর নিখোঁজ রয়েছে ৫ জন । তবে এই তথ্য মূলত নিহতদের পরিবারকে দেওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তার তালিকার ভিত্তিতে সংরক্ষিত হয়েছে

মৎস্য অফিস জানায়, একই সময়ে কতটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে, কতজন আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন—সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই ।

অনুসন্ধানে গলাচিপা উপজেলা আদালত সূত্রে জানা যায়, সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে গত পাঁচ বছরে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ, আহত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না ।

 

#”সমুদ্রে গেলে ফিরে আসব কি না, জানি না”:

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা শুধু একটি পেশা নয়, প্রতিদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। অভিজ্ঞ জেলেদের ভাষ্য, অনেক সময় টানা ১০ থেকে ২০ দিন গভীর সমুদ্রে থাকতে হয়। বৈরী আবহাওয়া, বিশাল ঢেউ, ইঞ্জিন বিকল হওয়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সেখানে নিত্যদিনের বাস্তবতা ।

জেলেদের ভাষায়, “সমুদ্রে গেলে কেউ নিশ্চিত বলতে পারে না, সে আবার ঘরে ফিরবে কি না।”

 

 

# “আমরা অনুমতিপত্রকেই লাইসেন্স মনে করতাম”:

ট্রলার মালিক মো. আল মামুন মৃধা বলেন, গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে পাওয়া অনুমতিপত্রকেই তারা দীর্ঘদিন লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেছি । গভীর সমুদ্রে যাওয়ার জন্য আলাদা লাইসেন্স, বড় ট্রলার ও অধিক শক্তিশালী ইঞ্জিনের প্রয়োজন—এ বিষয়টি অধিকাংশ ট্রলার মালিকই জানেন না বলে তিনি দাবি করেন।

তার অভিযোগ, নিয়মিত মনিটরিং হলে এক মাসের মধ্যেই সব ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, জিপিএস ও রেডিওসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

# নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই, তবুও গভীর সাগরে ট্রলার:

২৫ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরা জেলে বেল্লাল ঝামি বলেন, “আমাদের ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, জিপিএস বা রেডিও—কোনোটিই নেই। আগে কখনো এসব যাচাই করা হয়নি, এখনও হয় না। দুর্ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তা সরঞ্জামের কথা মনে পড়ে, পরে আর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। শুধু মৎস্য বিভাগের অনুমতিপত্র নিয়েই আমরা গভীর সাগরে যাই, এটাকেই লাইসেন্স মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “গভীর সমুদ্রে যেতে কী কী নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও কাগজপত্র বাধ্যতামূলক, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র দেওয়ার সময় যদি নিরাপত্তা সরঞ্জাম বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হতো এবং নিয়মিত তদারকি থাকত, তাহলে প্রতিবছর এত জেলের প্রাণহানি ঘটত না।”

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের রাঙ্গাবালী কন্টিনজেন্ট কমান্ডার (সিসি) মো. ইমরান কবির বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। এরপর তারা যেভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন, আমরা সেভাবেই কাজ করি।

বিগত বছরগুলোর উদ্ধার অভিযানের কোনো তথ্য এই অফিসে নেই। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত কোনো নৌকা বা জেলেকে উদ্ধার করা হয়নি ।

লাইসেন্স ছাড়া কীভাবে এত ট্রলার সাগরে যায়—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেসব ট্রলারকে আমাদের সন্দেহ হয়, আমরা সেগুলো তল্লাশি করি।

 

 

# মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য:

গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুর নবী জানান, গলাচিপা উপজেলার কোনো ট্রলারেরই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার লাইসেন্স নেই। বর্তমানে ১৯০টি অনুমতিপত্র রয়েছে, যা শুধুমাত্র উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার জন্য দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রে যাওয়ার আগে প্রতিটি ট্রলারের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সমুদ্রগামী উপযোগিতা যাচাই করা মৎস্য অফিসের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ট্রলারডুবিতে নিহত বা নিখোঁজের ঘটনায় মামলা করার সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি।

 

# বিশেষজ্ঞদের মত:

ঢাকা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী জানান, শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রচার করলেই দুর্ঘটনা কমবে না। বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, নিয়মিত পরিদর্শন, জেলেদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনের কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ট্রলারডুবি ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

প্রতিবছর একই ধরনের দুর্ঘটনা, একই শোক, একই প্রতিশ্রুতি—কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন খুবই সীমিত। নিরাপদ সমুদ্রযাত্রা নিশ্চিত না হলে বঙ্গোপসাগর উপকূলের হাজারো জেলে পরিবারের কাছে জীবিকার এই সমুদ্র বারবার মৃত্যুফাঁদ হয়েই ফিরে আসবে।

 

# সমাধানের পথ কোথায়:

বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উপকূলীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। সেই সমুদ্রে প্রতিটি ট্রলারডুবি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার গল্প।

এই অনুসন্ধান কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার জন্য নয়; বরং বিদ্যমান আইন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তদারকি বাস্তবে কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি প্রচেষ্টা।

যদি আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়, যদি নিরাপত্তা যাচাই নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে করা হয় এবং যদি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সমুদ্রে যাওয়া প্রতিটি জেলের নিরাপদে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত লক্ষ্য।

আরও পড়ুন

পবিপ্রবি’র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত
দুমকি

পবিপ্রবি’র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত

August 4, 2026
4
বাউফল

August 3, 2026
6
বাউফল পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং ; জনদূর্ভোগে প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক
বাউফল

বাউফল পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং ; জনদূর্ভোগে প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক

August 3, 2026
10
পটুয়াখালী সরকারি কলেজে মতবিনিময় সভা: শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর
পটুয়াখালী

পটুয়াখালী সরকারি কলেজে মতবিনিময় সভা: শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর

August 3, 2026
9
পটুয়াখালী পৌরসভায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আলতাফ হোসেন চৌধুরী
পটুয়াখালী

পটুয়াখালী পৌরসভায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আলতাফ হোসেন চৌধুরী

August 3, 2026
5
মির্জাগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ৮১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক
মির্জাগঞ্জ

মির্জাগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ৮১ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

August 3, 2026
3
Next Post
পবিপ্রবি’র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত

পবিপ্রবি'র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদকীয়

কৃষিগুচ্ছের ফলাফল প্রকাশিত নির্বাচিত ৩৭০১ জন, ওয়েটিং লিস্টে আরও ৭২৬৬ জন

কৃষিগুচ্ছের ফলাফল প্রকাশিত নির্বাচিত ৩৭০১ জন, ওয়েটিং লিস্টে আরও ৭২৬৬ জন

January 7, 2026
11

জুলাই মাস জুড়ে উপমহাদেশে ‘তেলাপোকা-ফার্মের মুরগি’র দাপট: তরুণের রাজনৈতিক প্রতিবাদের নতুন রূপ

July 22, 2026
5
নবনির্বাচিত ছাত্র অধিকার পরিষদের শহীদ জিহাদের কবর জিয়ারত

নবনির্বাচিত ছাত্র অধিকার পরিষদের শহীদ জিহাদের কবর জিয়ারত

September 19, 2025
27
Ecom Digital Technology Ecom Digital Technology Ecom Digital Technology
Facebook Twitter Youtube LinkedIn
দৈনিক গনদাবী

দৈনিক গণদাবী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ গোলাম কিবরিয়া

Follow us

প্রধান কার্যালয়
নতুন বাজার, পটুয়াখালী – ৮৬০০।

  •  +880 1712-132087
  •  ganodabinews@gmail.com

স্বত্ব © ২০২৫ দৈনিক গণদাবী | ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Ecom Digital Technology - edt.com.bd.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • সারাদেশ
  • রাজনীতি
  • পটুয়াখালী
    • পটুয়াখালী সদর
    • মির্জাগঞ্জ
    • দুমকি
    • বাউফল
    • দশমিনা
    • গলাচিপা
    • কলাপাড়া
    • রাঙ্গাবালী
  • সম্পাদকীয়
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • ধর্ম
  • স্বাস্থ্য
  • ভিডিও গ্যালারি

স্বত্ব © ২০২৫ দৈনিক গণদাবী | ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Ecom Digital Technology - edt.com.bd.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In