সরকারিভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ১২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ইতোমধ্যেই বইতে শুরু করেছে নির্বাচনের হাওয়া। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মেয়র প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সরাসরি গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মাঠের চিত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বড় একটি অংশ বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক হলেও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং গণঅধিকার পরিষদ থেকেও প্রার্থী আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ধানখালী ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রবিউল আউয়াল অন্তরের নাম আলোচনায় রয়েছে।
কলাপাড়ার ১২ ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট এ ইউনিয়নের পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই। তবে পায়রা বন্দর ও শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটির জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং কয়েকটি ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি ঝুলে থাকায় দ্রুত এ ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, কলাপাড়ায় প্রথম দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে মহিপুর ইউনিয়নে। এ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের নির্বাচনে মহিপুর ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এ ছাড়া চাকামইয়া, টিয়াখালী ও নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। ধুলাসার ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হবে একই বছরের ২৫ জুলাই এবং লতাচাপলী ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হবে ২৬ জুলাই। ২০২৮ সালের ২১ জুন চম্পাপুর, ডালবুগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর একদিন পর, ২২ জুন শেষ হবে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ।
বর্তমানে লতাচাপলী ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নীলগঞ্জ, ধানখালী ও চম্পাপুর ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে এসব ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী কমিশনারের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসক নিয়োগপ্রাপ্ত এই তিন ইউনিয়ন এখনো নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে কোন কোন ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে মহিপুর ইউনিয়নে প্রথম ধাপের নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।”
তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় না থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। গ্রাম থেকে গ্রামে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। একইভাবে কলাপাড়া ও কুয়াকাটা পৌরসভাতেও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে।









